আমতলায় তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয়ে প্রশাসনের ভাঙার অভিযানের পর পাল্টা আক্রমণে নামলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি দাবি করেন, বৈধ নথি থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পার্টি অফিসে বুলডোজার চালানো হয়েছে। একইসঙ্গে তিনি জানান, বিষয়টি কলকাতা হাই কোর্ট থেকে প্রয়োজন হলে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হবে। পাশাপাশি দলত্যাগী নেতাদের উদ্দেশে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, কেউ যদি দলে ফিরে আসেন, তাহলে তিনি নিজের পদ থেকে ইস্তফা দিতেও প্রস্তুত।
প্রশাসনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, ১৫ জুলাই জেলা প্রশাসনের ডাকা শুনানিতে তৃণমূলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সেই সময় অভিযোগের ভিত্তি জানতে চাইলেও প্রশাসন অভিযোগপত্র দেখাতে বা কপি দিতে পারেনি বলে অভিযোগ তাঁর।
তাঁর বক্তব্য, শুনানির মাত্র দু’দিনের মধ্যেই কোনও পূর্ণাঙ্গ আইনি প্রক্রিয়া শেষ না করেই দলীয় কার্যালয়ে ভাঙার অভিযান চালানো হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, পুরো ঘটনার ভিডিও তাঁদের কাছে রয়েছে এবং সমস্ত তথ্য-প্রমাণ ভারতের প্রধান বিচারপতির দপ্তরে ই-মেল করা হয়েছে।
‘বিজেপির বুলডোজার রাজনীতি’র অভিযোগ
প্রশাসনিক অভিযানের তীব্র সমালোচনা করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এটি শুধুমাত্র একটি প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়, বরং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ।
তাঁর অভিযোগ, পুলিশ ও প্রশাসনের পাশাপাশি গেরুয়া পতাকা ও ফেট্টি পরা বিজেপি কর্মীরাও ভাঙচুরে অংশ নিয়েছেন। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে বিজেপির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
জমির বৈধতা নিয়ে কী দাবি?
অভিষেকের দাবি, সংশ্লিষ্ট জমিটি সরকারি নয়, ব্যক্তিমালিকানাধীন। তাঁর কথায়, কার্যালয় নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদিত নকশা এবং সমস্ত বৈধ নথি তাঁদের কাছে রয়েছে।
তিনি জানান, সমস্ত নথি কলকাতা হাই কোর্টে জমা দেওয়া হবে। প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্টেও আইনি লড়াই চালানো হবে এবং যাঁরা বেআইনি ভাঙচুরে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বুথ দখলের অভিযোগ উড়িয়ে দিলেন
আমতলার কার্যালয় থেকে বুথ দখলের পরিকল্পনা করা হতো—এই অভিযোগও সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
তাঁর বক্তব্য, যদি এমন অভিযোগে সত্যতা থাকত, তাহলে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময়ই তা প্রমাণিত হতো। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বের বিষয়কে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তদন্তকারী সংস্থা ও দলত্যাগীদের উদ্দেশে বার্তা
ইডি, সিবিআই বা অন্য তদন্তকারী সংস্থার নোটিস পেলেই যারা দল ছাড়ছেন, তাঁদেরও কড়া বার্তা দেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।
তিনি বলেন, যদি কেউ নির্দোষ হন, তাহলে তদন্তের মুখোমুখি হওয়া উচিত। নিজের উদাহরণ টেনে তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থার ডাকে তিনি কখনও এড়িয়ে যাননি এবং মানুষের সমর্থনই তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি।
বিদ্রোহী শিবিরকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ
দল ছেড়ে যাওয়া নেতাদের উদ্দেশে অভিষেক বলেন, তাঁরা চাইলে আবার তৃণমূলে ফিরে আসতে পারেন। তবে সেই পরিস্থিতি হলে তিনি এক ঘণ্টার মধ্যেই নিজের দলীয় পদ থেকে ইস্তফা দেবেন।
তাঁর অভিযোগ, অনেকেই তদন্তকারী সংস্থার চাপ এড়াতে দলবদল করেছেন এবং পরে তাঁর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রচার শুরু করেছেন।
একুশে জুলাইয়ের আগে রাজনৈতিক বার্তা
বক্তব্যের শেষদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ২০২৪ সালের নির্বাচনে দলের সাফল্যের কৃতিত্ব যেমন তিনি গ্রহণ করেছেন, তেমনই যে কোনও ব্যর্থতার দায়ও নিতে প্রস্তুত। একইসঙ্গে তিনি জানান, ২১ জুলাইয়ের আগে কেউ যদি দলে ফিরতে চান, তাহলে তাঁদের বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। তবে যাঁদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে আইন ও সংগঠনের নীতি মেনেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। শেষ পর্যন্ত জনগণই চূড়ান্ত রায় দেবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


Leave a Comment