তেলিয়ামুড়া, মৃন্ময় রায়, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, শনিবার : দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটেছে—এই দাবিতে ঢাকঢোল পিটিয়ে শনিবার ত্রিপুরার খোয়াই জেলার মুঙ্গিয়াকামী রেল স্টেশনে আগরতলা–শিলচর এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রাবিরতি শুরু করা হলো। ১৫৬৬৩/১৫৬৬৪ নম্বর ট্রেনের এই থামাকে ঘিরে জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, অতিথিদের উপস্থিতি ও রাজনৈতিক বক্তৃতার ছড়াছড়ি থাকলেও, বাস্তব চিত্র একেবারেই ভিন্ন—যা এখন প্রশ্নের মুখে ফেলছে পুরো রেল পরিষেবা ব্যবস্থাকেই।
জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা গত ২৮ নভেম্বর কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে এই যাত্রাবিরতির দাবি জানান। রেল দপ্তরের অনুমোদন মিলতেই দ্রুততার সঙ্গে আয়োজন করা হয় উদ্বোধনের। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে—এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কি আদৌ স্টেশনের পরিকাঠামো, যাত্রী নিরাপত্তা ও ন্যূনতম সুবিধাগুলি যাচাই করা হয়েছে?
যেখানে এক্সপ্রেস ট্রেন থামানো হচ্ছে, সেই মুঙ্গিয়াকামী রেল স্টেশনের অবস্থা এখনও করুণ। পর্যাপ্ত প্ল্যাটফর্ম সুবিধা নেই, নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রায় অনুপস্থিত, যাত্রীদের বসার জায়গা, আলো, শৌচালয় কিংবা তথ্য বোর্ড—সব ক্ষেত্রেই চরম অব্যবস্থা। অথচ এই অপ্রস্তুত স্টেশনেই প্রতিদিন এক্সপ্রেস ট্রেন থামিয়ে যাত্রী পরিষেবার ঢাক পেটানো হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ আরও তীব্র। তাঁদের মতে, এই যাত্রাবিরতি সাধারণ মানুষের স্বার্থে নয়, বরং রাজনৈতিক প্রচারের হাতিয়ার হিসেবেই বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। অভিযোগ উঠছে—মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা নিজের রাজনৈতিক কৃতিত্ব জাহির করতেই এই ট্রেন থামানোর ব্যবস্থা করেছেন, অথচ যাত্রীদের জন্য ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়ে কোনও গুরুত্বই দেওয়া হয়নি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা, সাংসদ কৃতি সিং দেববর্মণ, রেল দপ্তরের আধিকারিকসহ একাধিক অতিথি। বক্তৃতায় শোনা গেছে শিক্ষা, চিকিৎসা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের নতুন দিগন্ত খুলে যাওয়ার আশ্বাস। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি বলছে—স্টেশনে যদি যাত্রী নিরাপত্তা ও পরিষেবার বুনিয়াদি ব্যবস্থাই না থাকে, তবে এই যাত্রাবিরতির সুফল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
সচেতন মহলের স্পষ্ট দাবি—রাজনৈতিক ফটোসেশন নয়, প্রয়োজন বাস্তব উন্নয়ন। স্টেশনে অবিলম্বে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে, যাত্রীদের জন্য নির্দিষ্ট সময়সূচি ও তথ্য প্রচার নিশ্চিত করতে হবে এবং পরিকাঠামো উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে এই এক্সপ্রেস থামা একদিনের অনুষ্ঠানের বেশি কিছু হবে না।
জনস্বার্থের নামে যদি এই যাত্রাবিরতি শুরু হয়ে থাকে, তবে তার সুফল পেতে হলে চাই বাস্তবমুখী পরিকল্পনা ও কাজ। নইলে এই উদ্যোগ ইতিহাসে জায়গা নেবে শুধুই রাজনৈতিক কৃতিত্বের প্রচার হিসেবে—যার সঙ্গে সাধারণ মানুষের জীবনের বাস্তবতার কোনও মিল থাকবে না।
শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন একটাই—ট্রেন থামল ঠিকই, কিন্তু উন্নয়নের ট্রেন কি আদৌ রওনা হলো?
---Advertisement---
মুঙ্গিয়াকামী রেলস্টেশনে প্রচারের ঢাকঢোল, উন্নয়নে চরম ফাঁক!
January 17, 2026 2:48 PM
---Advertisement---
---Advertisement---
No comments to show.



Leave a Comment