---Advertisement---

‘মানুষ ভোট দেয় এক দলকে, নেতা যোগ দেন অন্য দলে’— এসব চলবে না, দেশজুড়ে অভিযান শুরু CJP-র

By Suman Debnath

August 6, 2026 8:45 PM

‘মানুষ ভোট দেয় এক দলকে, নেতা যোগ দেন অন্য দলে’— এসব চলবে না, দেশজুড়ে অভিযান শুরু CJP-র

---Advertisement---


নয়াদিল্লি: রাজনৈতিক দলবদল, জনমতের মূল্য এবং গণতান্ত্রিক জবাবদিহি— এই তিন ইস্যুকেই সামনে রেখে নতুন বার্তা দিল ককরোচ জনতা পার্টি (Cockroach Janta Party – CJP)। দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে (Abhijeet Dipke) অভিযোগ করেছেন, ভোটাররা এক রাজনৈতিক দলের প্রতীকে ভোট দিলেও নির্বাচনের পর বহু জনপ্রতিনিধি অন্য দলে যোগ দেন। এতে গণতন্ত্রে মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন হয় বলে দাবি তাঁর। একই সঙ্গে আগামী মাস থেকে দেশজুড়ে ‘ক্যা বলতি পাবলিক’ নামে জনসংযোগ কর্মসূচি শুরু করার ঘোষণা করেছে সিজেপি।

এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে অভিজিৎ দিপকে বলেন, সাধারণ মানুষ একটি রাজনৈতিক দলের নীতি ও প্রতীকের উপর ভরসা করে ভোট দেন। কিন্তু নির্বাচনের পর যদি সেই জনপ্রতিনিধিই অন্য দলে চলে যান, তাহলে ভোটারের মতামতের প্রতি সম্মান কোথায় থাকে— সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক দলবদলের এই প্রবণতা গণতান্ত্রিক জবাবদিহিকে দুর্বল করে দিচ্ছে।

সিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী মাসে শুরু হতে চলা ‘ক্যা বলতি পাবলিক’ অভিযানের লক্ষ্য দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গিয়ে সরাসরি মানুষের সঙ্গে কথা বলা। নাগরিকদের দৈনন্দিন সমস্যা, প্রশাসনের প্রতি প্রত্যাশা এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি তাঁদের মতামত সংগ্রহ করাই হবে এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য।

আরও পড়ুন:  তৃণমূলের ভাঙনের সুযোগ নিয়ে সিপিএম যেন না আসে, বিজেপিকে সতর্কবার্তা তথাগত রায়ের

সম্প্রতি নয়াদিল্লি (New Delhi)-তে হাজার হাজার তরুণকে প্ল্যাকার্ড হাতে রাস্তায় নামতে দেখা যায়। তাঁদের দাবির কেন্দ্রে ছিল জবাবদিহি, স্বচ্ছতা এবং ন্যায়বিচার। অনেকের মতে এটি শুধুই সরকার-বিরোধী আন্দোলন ছিল না; বরং দেশের তরুণ প্রজন্মের রাজনৈতিক মনোভাবের পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।

বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জেনারেশন জেড (Generation Z) ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। হংকং (Hong Kong), চিলি (Chile), ফ্রান্স (France) এবং বাংলাদেশ (Bangladesh)-সহ একাধিক দেশে তরুণদের নেতৃত্বে হওয়া আন্দোলনের মূল বিষয় ছিল স্বচ্ছতা, সুযোগের সমতা এবং জবাবদিহি। দিল্লির সাম্প্রতিক ঘটনাও সেই বৃহত্তর বৈশ্বিক প্রবণতার ভারতীয় প্রতিফলন বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

এই প্রেক্ষাপটে ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি-কাম-এন্ট্রান্স টেস্ট (National Eligibility-cum-Entrance Test – NEET)-কে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের কথাও উঠে আসে। প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ সামনে আসার পর ক্ষোভ শুধু পরীক্ষার্থীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। বহু পরিবারের মধ্যে এমন আশঙ্কা তৈরি হয় যে কঠোর পরিশ্রম ও মেধার যথাযথ মূল্যায়ন ভবিষ্যতেও নিশ্চিত থাকবে কি না।

আরও পড়ুন:  ‘রাজ্যের সেরা হাসপাতালের চিকিৎসকদের উপর আস্থা নেই কেন?’— অভিষেককে প্রশ্ন বিচারপতির, মেডিক্যাল বোর্ডের রিপোর্ট না এলে সিদ্ধান্ত নয়

পর্যবেক্ষকদের মতে, নীট বিতর্ক আসলে বৃহত্তর এক সামাজিক উদ্বেগকে সামনে নিয়ে এসেছে। মানুষ এখন শুধু প্রতিষ্ঠানগুলির নিরপেক্ষতা নয়, সেই নিরপেক্ষতার প্রতি জনবিশ্বাসও অটুট থাকুক— এই প্রত্যাশা করছে। একবার সেই আস্থা নষ্ট হলে তার প্রভাব কেবল একটি পরীক্ষা নয়, গোটা ব্যবস্থার উপর পড়তে পারে।

ইতিহাস বলছে, জনস্বার্থের প্রশ্নে শুরু হওয়া আন্দোলন সময়ের সঙ্গে বৃহত্তর রাজনৈতিক বিতর্কে পরিণত হওয়া নতুন নয়। অন্না হাজারে (Anna Hazare)-র দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গণআন্দোলন— বহু ক্ষেত্রেই প্রথমে নির্দিষ্ট ইস্যু থাকলেও পরে তা বৃহত্তর রাজনৈতিক আলোচনার অংশ হয়ে উঠেছে। সিজেপির সাম্প্রতিক কর্মসূচিকেও সেই ধারাবাহিকতার মধ্যেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গণতন্ত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল প্রকৃত জনসমস্যার দ্রুত সমাধান। আন্দোলন যদি শুধুমাত্র রাজনৈতিক লাভ-লোকসানের মঞ্চে পরিণত হয়, তাহলে মূল সমস্যাগুলি আড়ালে চলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই সরকারের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলিরও দায়িত্ব মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারকে অগ্রাধিকার দেওয়া।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment