---Advertisement---

‘আমাদের বহু নেতা আছে যারা এই মধুতে আসক্ত’, কড়া ভাষায় বিঁধলেন দিলীপ

By Suman Debnath

August 2, 2026 11:15 AM

‘আমাদের বহু নেতা আছে যারা এই মধুতে আসক্ত’, কড়া ভাষায় বিঁধলেন দিলীপ

---Advertisement---


শুরুটা করেছিলেন বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারি। সেটাতে সিলমোহর দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। এবার সেটাকে চরমে পৌঁছে দিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। ‘তোলাবাজি’ সংস্কৃতি নিয়ে কড়া ভাষায় বিঁধলেন দলের নেতা-কর্মীদের। কারণ অনেকেই নাকি এই সংস্কৃতিতে আসক্ত। এই তোলাবাজি নিয়ে দলের অন্দরে একাধিক অভিযোগ এসে জমা পড়েছে। যা দেখে বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বের চক্ষু চড়কগাছ। ক্ষমতায় আসার পর থেকে দুর্নীতি, তোলাবাজি, কাটমানি, সিন্ডিকেটরাজ-সব বন্ধ করার নিদান দেওয়া হয়েছিল। শুধু তাই নয়, এইসব বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়া হয়েছিল। তারপরও এমন অভিযোগে বিরক্ত বিজেপির শীর্ষ নেতারা। যা নিয়ে রবিবার সুর চড়ালেন দিলীপ ঘোষ।

এই তোলাবাজি যারা করছে তাদের যে রেয়াত করা হবে না সেটাও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর সেইসব নেতা-কর্মীদের উপর যে দল নজর রেখেছে সেটা এদিন মনে করিয়ে দিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী। এই বিষয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘আমাদের বহু নেতা আছে যারা এই মধুতে আসক্ত হয়ে যাচ্ছে। পার্টি নজর রেখেছে চেষ্টা করছে। তোলাবাজির সংস্কৃতি এত তাড়াতাড়ি উঠে যাবে এটা ভাবার কোনও কারণ নেই। পুলিশকে বলা হয়েছে, অভিযোগ আসলেই ব্যবস্থা নিতে হবে।’ কিছুদিন আগেই জিতেন্দ্র তিওয়ারি দলের নেতা-কর্মীদের তোলাবাজির বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন। কিন্তু তারপরও বিষয়টি থামেনি।

আরও পড়ুন:  ২৩ দিনের অনশন ভাঙলেন ওয়াংচুক, জেপি নাড্ডার সঙ্গে বৈঠকে CJP-র ৩ দাবি

এই তোলাবাজি সংস্কৃতি যে থামেনি সেটা নিজে মুখে স্বীকার করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। আগামী ৯ আগস্ট শুভেন্দু অধিকারীর সরকারের তিনমাস পূর্ণ হতে চলেছে। কিন্তু তোলাবাজি চলছেই। শনিবার প্রকাশ্যেই একথা কার্যত স্বীকার করে নিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্বয়ং। রাজারহাটে আইআইটি খড়্গপুর রিসার্চ পার্কে ‘উদ্যমী সমাগম’ অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘দু’মাস হয়েছে একটা সরকার তৈরি হয়েছে। সমস্ত কিছুর সমাধান করা যায়নি। আমি আমার দলের পক্ষ থেকে যদি বলি সব জায়গায় তোলাবাজি বন্ধ করে দিতে পেরেছি, তাহলে ভুল হবে। কিছু বিচ্যুতি আছে। একটা পদ্ধতির মধ্যে দিয়ে মানুষ দীর্ঘদিন গিয়েছে। ইজি মানির মধ্যে দিয়ে একটা সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে। ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পরে সমস্ত কিছু বদল হয়ে গিয়েছে, এমনটা নয়। আমার দলেরই অনেকের মধ্যে সুপ্ত বাসনা, যা এতদিন অতৃপ্ত অবস্থায় ছিল, সেগুলি ফুটে বেরচ্ছে।’

আরও পড়ুন:  সেন্ট্রাল লকআপে বাড়ছে নজরদারি, বন্দিদের কথোপকথন রেকর্ড করতে লালবাজারে বসছে নতুন সিসিটিভি

শমীকবাবু যা বলেছেন সেটা যে সম্পূর্ণ ঠিক তা এদিন স্বীকার করে নিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী। আর এসব চললে যে দলের বদনাম হবে সেটা সকলেই জানেন। তাই বিজেপি নেতারা এখন থেকে সতর্ক করতে শুরু করেছেন। দিলীপ ঘোষের অবশ্য কড়া বার্তা, ‘আমাদের বহু নেতা আছে, যারা এই মধুতে আসক্ত হয়ে যাচ্ছে। পার্টি নজর রেখেছে চেষ্টা করছে। পার্টির মধ্যে আলোচনা হচ্ছে। এরা খুব ঘনিষ্ঠ হয়ে গিয়েছে যারা মানুষকে কষ্ট দিয়েছিল তাদের সঙ্গে। মানুষ যে উদ্দেশে বদল করেছে সেটা যেন আমরা ভুলে না যাই।’

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment