---Advertisement---

রথের দিনে নন্দীগ্রামে ভয়ানক দুর্ঘটনা, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ২৫

By Suman Debnath

July 17, 2026 2:50 PM

রথের দিনে নন্দীগ্রামে ভয়ানক দুর্ঘটনা, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ২৫

---Advertisement---


আনন্দের মধ্যে হঠাৎ নেমে এলো বিষাদের ছায়া। রথযাত্রার দিনে তেখালিতে ঘটল এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা। সবেমাত্র রথের রশিতে টান দেওয়া শুরু, সকলে মিলে রথ টেনে নিয়ে যাচ্ছেন উৎসবের আনন্দে। হঠাৎই একটা ছোট ভুল আর একটু অসাবধানতায় গোটা পরিবেশ পাল্টে যায়।

প্রতি বছরের মতো, এবারও নন্দীগ্রামের তেখালি বাজার ব্যবসায়ী সমিতির আয়োজনে বের হয়েছিল রথ। বহু মানুষ এসে ভিড় করেছিলেন সেখানে। প্রভু জগন্নাথ, বলরাম আর শুভদ্রার রথ জনসমুদ্রে এগিয়ে চলেছে। সন্ধ্যায় শুরু হয়েছিল যাত্রা। কিছু সময়ের মধ্যেই ঘটে যায় সেই দুর্ঘটনা।

রাস্তায় চলতে চলতে রথের চূড়া গিয়ে ঠেকে যায় ওপরের বিদ্যুতের তারে। রথের কাঠামো ছিল লোহার, তার ওপর কাঠের পাটাতন। বিদ্যুতের তারে স্পর্শ হতেই অনেক ভক্ত মুহূর্তে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পড়েন। চারদিকে হৈচৈ, আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। লোকে ছুটোছুটি শুরু করে। আহতদের দ্রুত নিয়ে যাওয়া হয় নন্দীগ্রাম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে। জানা গিয়েছে, ঘটনায় মোট ২৫ জন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। পুলিশ আর হাসপাতাল কর্মীরা দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দেন। হাসপাতাল সূত্র বলছে, আহতদের মধ্যে ১৫ জন প্রাথমিক চিকিৎসার পর বাড়ি ফিরে গেছেন, বাকিদের চিকিৎসা চলছে।

আরও পড়ুন:  বিধানসভায় ক্যাগ রিপোর্ট পেশ, ১৮ শতাংশ রাজস্ব বাড়তে পারে দাবি অর্থমন্ত্রীর

কিন্তু এমনটা কেন হলো? প্রাথমিকভাবে সবাই বলছে, সারা দিনের বৃষ্টিতে রথের কাঠামো ভেজা ছিল, আর বিদ্যুতের তারেও হয়ত জল ছিল। এতেই রথের চূড়া তারে ঠেকতেই বিপদ নেমে আসে। নন্দীগ্রাম থানার আইসি অজয় মিশ্র জানালেন, তদন্ত চলছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার পুরীর রথযাত্রায়ও ঘটে যায় আরও এক বড় দুর্ঘটনা। অতিরিক্ত ভিড়ে পদপিষ্ট হয়ে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন শতাধিক দর্শনার্থী। অতিরিক্ত চাপ, ঠেলা-ধাক্কায় অনেকে পড়ে যান, আহত হন। বেশ কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। প্রচুর মানুষ জমায়েত হয়েছিলেন পুরীতে, সেখানেই এই দুর্ঘটনা।

৬০ বছর বয়সি একজন হাসপাতালে চিকিৎসার সময় মারা যান। হাসপাতাল কতৃপক্ষ বলেছে, ভিড়ে দাঁড়িয়ে থাকার চাপে তাঁর শ্বাসকষ্ট শুরু হয়, পরে মারা যান। সাত জন এখনো হাসপাতালে ভর্তি, সব মিলিয়ে প্রায় ৫০ জন ভর্তি আছেন বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন:  ঋতব্রতদের পরই খলিলুর-আবু মুখ্যমন্ত্রীর দুয়ারে, নবান্নের বৈঠক উঠল বিস্তর গুঞ্জন

মোট কথা, উৎসবের আনন্দ মুহূর্তেই মুছে দিয়েছে এই দুর্ঘটনাগুলো। প্রত্যেকেই চাইছেন, ভবিষ্যতে যাতে এ রকম ভুল আর অসাবধানতা না হয় — আর কখনও যেন হাসি কান্নায় ভেসে না যায়।

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment