---Advertisement---

সব পুজোয় নয়, ১০ লক্ষের কম বাজেটের কমিটিকে অনুদান? দুর্গাপুজোয় বড় সিদ্ধান্তের পথে রাজ্য

By Suman Debnath

August 9, 2026 3:20 PM

সব পুজোয় নয়, ১০ লক্ষের কম বাজেটের কমিটিকে অনুদান? দুর্গাপুজোয় বড় সিদ্ধান্তের পথে রাজ্য

---Advertisement---


অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে বাঙালির সেরা উৎসব দুর্গাপুজো হবে। মে মাসে রাজ্যে নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেছে। আর এটা তাদের কাছেও  প্রথম শারদোৎসব। কলকাতার শারদোৎসব নিয়ে রাজ্য সরকারের মনোভাব এখনও স্পষ্ট হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সময়ের মতো রাজ্যের সব দুর্গাপুজো কমিটিকে আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে না। মাত্র যেসব পুজো কমিটির প্রয়োজন রয়েছে তাদের বাছাই করে অনুদান দেবে রাজ্য সরকার।

 

নবান্ন সূত্রে খবর যে পুজো কমিটিগুলি যাদের বাজেট ১০ লক্ষ টাকার কম তাদের আর্থিক অনুদান দেওয়ার বিষয়টি ভাবছে রাজ্য সরকার। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে মুখ্যমন্ত্রী অর্থ দফতরের সঙ্গে আলোচনা করতে পারেন। গত বছর পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার সব পুলিশ অনুমোদিত পুজো কমিটিকে এক লক্ষ ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান দিত। করোনা সময়ে লকডাউনের কারণে পুজো কমিটিগুলি আর্থিক সংকটে পড়েছিল। তখন রাজ্য সরকার প্রথমবার ৫০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া শুরু করেছিল। ধাপে ধাপে এই অনুদানের পরিমাণ বাড়তে বাড়তে ২০২৫ সালে এক লক্ষ ১০ হাজার টাকায় পৌঁছেছিল। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন যে তাঁর সরকার রাজ্যের সব পুজো কমিটিকে আর্থিক অনুদান দেবে না। বরং যে সব পুজো কমিটির সত্যিই প্রয়োজন রয়েছে তাদের বাছাই করে অনুদান দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন:  মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পরই ধর্মতলায় তাণ্ডবে বড় পদক্ষেপ! ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেপ্তার ১১, গুণ্ডাদমন আইনে কড়া ব্যবস্থা

 

বুধবার নবান্নে কলকাতার দুর্গাপুজো কমিটিগুলির সম্মিলিত সংগঠন ‘ফোরাম ফর দুর্গোৎসব’-এর দুই কর্তার সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী সাক্ষাৎ করেন। বালিগঞ্জ কালচারালের অন্যতম কর্তা অঞ্জন উকিল এবং বেহালা নূতন দলের কর্মকর্তা সন্দীপন বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে কলকাতার শারদোৎসব সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁদের মতামত জানান। এর পর বুধবার রাতে ফোরাম ফর দুর্গোৎসবের হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপে একটি বার্তা দেন অঞ্জন উকিল। সেখানে তিনি লেখেন, ‘‘গতকাল সম্মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে ফোরামের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে। ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ-ও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। বড় রাস্তা ও গলির পুজো, বিদ্যুতের ছাড়, হোর্ডিং-ব্যানারের উপর কর্পোরেশন ট্যাক্সে ছাড়, পুজোর অনুদান— এরকম প্রতিটি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট দফতরগুলির সঙ্গে আলোচনা করে এই বিষয়ে তাঁর সিদ্ধান্ত চলতি মাসেই একটি বৈঠক করে সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হবে। তিনি অত্যন্ত সদর্থক মনোভাব নিয়ে আমাদের প্রতিটি কথা শুনেছেন এবং বলেছেন, আপনারা সকলে মিলে শহরবাসীকে একটি সুন্দর পুজো উপহার দেওয়ার জন্য কাজে নেমে পড়ুন।’’ ফোরামের তরফে মুখ্যমন্ত্রী ও ক্রীড়ামন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয় ওই বার্তায়।

আরও পড়ুন:  পুরীর আবহ এবার কেষ্টপুরে, রবীন্দ্রপল্লির ‘জগন্নাথ বাড়ি’র রথে ভক্তের ঢল

 

ফোরাম ফর দুর্গোৎসবের কর্তার ওই বার্তা ইতিমধ্যেই কলকাতার বিভিন্ন পুজো কমিটির মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে বহু ছোট পুজো কমিটি আশায় বুক বাঁধছে, এ বার তারা সরকারের কাছ থেকে অনুদান পেতে পারে। রাজ্য সরকারের অবস্থান স্পষ্ট না হওয়ায় এখনও অনেক ছোট পুজো কমিটি নিজেদের পুজোর বাজেট চূড়ান্ত করতে পারেনি। এমনকি খরচ কমানোর কথা মাথায় রেখে বেশ কিছু পুজো কমিটি থিম পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে। কোথাও কোথাও থিমশিল্পীকেও বদল করা হয়েছে।

 

উত্তর কলকাতার খ্যাতনামা পুজো টালা প্রত্যয়ের অন্যতম কর্তা দেবাশিস সোম বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী বড় পুজো কমিটিগুলিকে বাদ দিয়ে ছোট পুজো কমিটিগুলিকে আর্থিক অনুদান দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাকে আমরা স্বাগত জানাই। আমাদের পুজো কমিটি নতুন করে তৈরি হয়েছে। নিজেদের ক্লাবের কর্তাদের উদ্যোগে সংগৃহীত অর্থ দিয়েই আমরা দেবী আরাধনা করব।’’ অন্যদিকে, দক্ষিণ কলকাতার বেহালা সাহাপুর সাংগঠনিক ক্লাবের অন্যতম সদস্য মৈনাক চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আমরা একেবারেই ছোট পুজো করি। আমাদের পুজোর বাজার ১০ লাখ কেন পাঁচ লাখও নয়। সরকারি অনুদান পেলে পুজোর কলেবর আরও ভাল হবে। আপাতত মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার জন্য আমরা অপেক্ষা করছি।’’

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment