তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ভাঙনের আবহে আরও এক বড় ধাক্কা। এবার দল ছাড়ার ঘোষণা করলেন সপ্তগ্রামের প্রাক্তন বিধায়ক এবং রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তপন দাশগুপ্ত। দীর্ঘদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত এই প্রবীণ নেতা দল ছাড়ার পর সংগঠনের বর্তমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন। তাঁর অভিযোগ, দল ভুল পথে পরিচালিত হচ্ছে এবং সেই কারণেই বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তপন দাশগুপ্ত বলেন, “দলটাকে দালালরা শেষ করে দিল। রাজনীতিকে যদি ব্যবসা বানানো হয়, তাহলে সেই দলের পরিণতি এমনই হয়।” একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের সিদ্ধান্ত ও নেতৃত্বের নানা ত্রুটির ফলেই সংগঠন আজ সংকটের মুখে দাঁড়িয়েছে।
প্রায় ৪০ বছর ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক সহযাত্রী ছিলেন তপন দাশগুপ্ত। তৃণমূল সরকারের আমলে তিনি তিনবার বিধায়ক নির্বাচিত হন এবং দু’দফা মন্ত্রিত্বও সামলান। ২০১৬ সালে রাজ্যের কৃষি বিপণন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এছাড়া দলীয় সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের পাশাপাশি একাধিক সরকারি সংস্থা ও পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবেও কাজ করেছেন।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দল তাঁর পরিবর্তে অন্য প্রার্থীকে টিকিট দেওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছিল। অবশেষে সেই জল্পনারই ইতি টেনে তিনি দল ছাড়ার ঘোষণা করলেন।
তবে তপন দাশগুপ্ত স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে যাচ্ছেন না। আপাতত অন্য কোনও রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, দলের কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে আলোচনা করার পরই ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূলের একাধিক সাংসদ ও বিধায়কের দলত্যাগ ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যথেষ্ট উত্তপ্ত। সেই আবহেই তপন দাশগুপ্তের পদত্যাগ রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এখন নজরে থাকবে শাসক ও বিরোধী— দুই শিবিরেরই।


Leave a Comment