নয়া দিল্লী: NEET প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে দেশজুড়ে বিক্ষোভ, ছাত্র-আন্দোলন এবং রাজনৈতিক চাপের আবহে অবশেষে মুখ খুললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার দুই মাসেরও বেশি সময় পর তিনি ঘটনাকে ‘জঘন্য অন্যায়’ বলে উল্লেখ করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম শাস্তির নির্দেশ দেওয়ার বার্তা দিয়েছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে কোনও পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস না হয়, তার জন্য নির্ভুল ও নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার উপরও জোর দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার এনডিএ (NDA) সংসদীয় দলের ‘মঙ্গল মিলন’ বৈঠকের পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু (Kiren Rijiju) প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, মোদি স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্রশ্নফাঁসের মতো ঘটনা দেশের লক্ষ লক্ষ পড়ুয়ার ভবিষ্যতের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তাই এই ধরনের অপরাধের সঙ্গে যুক্তদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, শুধু সরকার নয়, গোটা দেশের দায়িত্ব হল এমন একটি পরীক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে প্রশ্নফাঁস বা অনিয়মের কোনও সুযোগ থাকবে না। পাশাপাশি সংসদে আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে এনডিএ শরিকদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি। বিরোধী দলগুলির প্রতিও সংসদে গঠনমূলক ভূমিকা পালনের আবেদন জানান মোদি। তাঁর কথায়, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু দেশের ভবিষ্যৎ এবং যুবসমাজের স্বার্থে সব সাংসদেরই একসঙ্গে কাজ করা উচিত।
প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন NEET-সহ একাধিক প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে দেশজুড়ে ক্ষোভ চরমে। দিল্লিতে সংসদ অভিযানের ডাক দিয়ে রাস্তায় নেমেছিলেন হাজার হাজার ছাত্র-যুব। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জেরও আশ্রয় নেয়।
এই আন্দোলনের অন্যতম দাবিই ছিল কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan)-এর পদত্যাগ। পরীক্ষায় অনিয়ম, প্রশ্নফাঁস এবং মূল্যায়ন সংক্রান্ত বিতর্কে কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়ে সরব হয়েছে ছাত্র সংগঠন ও আন্দোলনকারীরা। একই সঙ্গে শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk)-ও এই ইস্যুতে অনশন কর্মসূচিতে বসেছেন।
উল্লেখ্য, NEET দেশের অন্যতম বড় মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা, যেখানে প্রতি বছর ২০ লক্ষেরও বেশি পরীক্ষার্থী অংশ নেন। প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ সামনে আসার পর মে মাসে পরীক্ষা বাতিল করা হয় এবং পরে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হয়। এই বিতর্কের পাশাপাশি CBSE-র অনলাইন মূল্যায়ন ব্যবস্থাকেও ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে। বহু পরীক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন, ভুল নম্বর দেওয়া হয়েছে বা অন্যের ফল তাঁদের নামে প্রকাশিত হয়েছে।
প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়ার পর এখন নজর কেন্দ্রীয় সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। পড়ুয়া ও অভিভাবকদের একাংশের আশা, শুধু কঠোর মন্তব্য নয়, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রুখতে কার্যকর সংস্কারও দ্রুত বাস্তবায়িত হবে।
Leave a Comment