---Advertisement---

স্বামীর অফিসে গিয়ে অশান্তি বা অভিযোগ একেবারেই বরদাস্ত নয়, ডিভোর্স কেসে বড় রায় সুপ্রিম কোর্টের

By Suman Debnath

July 16, 2026 7:55 PM

স্বামীর অফিসে গিয়ে অশান্তি বা অভিযোগ একেবারেই বরদাস্ত নয়, ডিভোর্স কেসে বড় রায় সুপ্রিম কোর্টের

---Advertisement---


দাম্পত্য কলহ (matrimonial dispute) বা স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক অশান্তির জেরে সোজা স্বামীর কর্মস্থলে (employer) গিয়ে অভিযোগ জানানো বা সেখানে গিয়ে অশান্তি করার প্রবণতা ইদানীং বাড়ছে। এবার এই মারাত্মক প্রবণতা নিয়েই তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল দেশের শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) সাফ জানিয়েছে, বৈবাহিক বিবাদের জেরে স্বামীর চাকরিদাতাদের কাছে গিয়ে অভিযোগ জানানো বা তাঁদের এই পারিবারিক ঝামেলার মধ্যে টেনে আনা একেবারেই মেনে নেওয়া যায় না। আদালত এই ধরনের অভ্যাসকে সম্পূর্ণ অনুচিত বলে কড়া ভাষায় নিন্দা (deplores practice) করেছে।

বিচারপতি বেলা এম ত্রিবেদী এবং বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মার ডিভিশন বেঞ্চ (division bench) একটি মামলার শুনানিতে এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণটি করেছে। আদালতের মতে, এই ধরনের আচরণের মূল উদ্দেশ্যই থাকে স্বামীর কেরিয়ার নষ্ট করা এবং কর্মক্ষেত্রে তাঁকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা।

কেন এই কড়া অবস্থান?

শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোনো আইনি বা পারিবারিক বিরোধ থাকলে, তা আদালতের মাধ্যমে কিংবা আইনি পথে মোকাবিলা করা উচিত। কিন্তু তা না করে, স্বামীর অফিস বা সংস্থায় (organisation) চিঠি পাঠানো, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ইমেল করা কিংবা সরাসরি অফিসে গিয়ে অশান্তি সৃষ্টি করার ঘটনা ক্রমশ বাড়ছে। আদালতের বক্তব্য, “স্ত্রীর এই ধরনের পদক্ষেপের একমাত্র উদ্দেশ্য থাকে স্বামীর চাকরি খাওয়া বা কর্মস্থলে তাঁর সম্মানহানি করা, যা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা যায় না।”

আরও পড়ুন:  বিরোধী বিক্ষোভে দুপুর ২টো পর্যন্ত মুলতুবি সংসদ

আইনজীবীদের একাংশের মতে, এই রায়ের ফলে বৈবাহিক বিবাদের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত লড়াইকে পেশাদার ক্ষেত্রে টেনে আনার নোংরা খেলায় রাশ টানা সম্ভব হবে।

ঠিক কী ঘটেছিল?

আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ছত্তীশগঢ়ের এক দম্পতির বিবাহবিচ্ছেদের মামলা (divorce case) চলাকালীন এই বিষয়টি সামনে আসে। সেখানে স্বামীর বিরুদ্ধে নির্যাতন ও নিষ্ঠুরতার (cruelty) অভিযোগ এনেছিলেন স্ত্রী। কিন্তু একই সঙ্গে তিনি স্বামীর সংস্থায় গিয়ে এবং তাঁর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে স্বামীর নামে একাধিক লিখিত অভিযোগ জমা দেন। এর জেরে স্বামীর কেরিয়ার ও চাকরি ক্ষেত্রে মারাত্মক প্রভাব পড়ে।

ছত্তীশগঢ় হাইকোর্ট (Chhattisgarh High Court) এই মামলায় স্বামীর পক্ষে রায় দিয়ে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন মঞ্জুর করেছিল। হাইকোর্ট জানিয়েছিল, স্বামীর কর্মস্থলে গিয়ে এই ধরনের আচরণ করা ‘মানসিক নিষ্ঠুরতা’র (mental cruelty) শামিল। হাইকোর্টের এই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন স্ত্রী। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট স্ত্রীর সেই আবেদন খারিজ করে দিয়ে হাইকোর্টের রায়কেই বহাল রাখল।

আরও পড়ুন:  লিভ-ইন সম্পর্কেও ৪৯৮এ ধারার সুরক্ষা, ঐতিহাসিক রায় সুপ্রিম কোর্টের

মানসিক নিষ্ঠুরতার  নতুন সংজ্ঞা

সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, স্বামীর কর্মক্ষেত্রে বারবার অভিযোগ পাঠানো এবং তাঁর পেশাগত জীবনে বাধা সৃষ্টি করার এই মানসিকতা আদতে এক ধরনের মানসিক অত্যাচার। একজন চাকুরিজীবী মানুষের কাছে তাঁর কর্মক্ষেত্রের সম্মান অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। সেখানে এই ধরনের আক্রমণ ব্যক্তির বেঁচে থাকার ও রুজিরুটির অধিকারের ওপর আঘাত হানে। তাই একে নিষ্ঠুরতা হিসেবেই গণ্য করেছে সর্বোচ্চ আদালত।

পশ্চিমবঙ্গের লিগ্যাল সার্কেল ও সমাজকর্মীদের মতে, এ রাজ্যের বহু পারিবারিক মামলাতেও এমন প্রবণতা দেখা যায়। সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের পর এখন থেকে যে কোনও বৈবাহিক মামলার ক্ষেত্রে এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার আগে সবাই দু’বার ভাববে।

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment