---Advertisement---

‘ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ মানেই নাগরিকত্ব শেষ নয়’, বাংলার ‘SIR’ মামলায় গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের

By Suman Debnath

July 18, 2026 10:55 AM

‘ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ মানেই নাগরিকত্ব শেষ নয়’, বাংলার ‘SIR’ মামলায় গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের

---Advertisement---


বাংলার ‘সার’ (Special Intensive Revision বা SIR) প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে ওঠা বিতর্কের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করল সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার মামলার শুনানিতে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ভোটার তালিকা থেকে কোনও ব্যক্তির নাম বাদ পড়লেই তাঁকে নাগরিকত্বহীন বলে ধরা যাবে না। একইসঙ্গে আদালত মনে করিয়ে দিয়েছে, ‘সার’-এর তথ্য শুধুমাত্র নির্বাচনী প্রক্রিয়ার জন্য ব্যবহার করা যাবে, জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে তার কোনও প্রভাব পড়া উচিত নয়।

কী অভিযোগ উঠল আদালতে?

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি. মোহনার বেঞ্চে শুক্রবার মামলার শুনানি হয়।

মামলাকারী প্রসেনজিৎ বসুর পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন ও নেহা রাঠি আদালতে দাবি করেন, ‘সার’ প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের অনেকেই রেশন, অন্নপূর্ণা যোজনা-সহ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

আইনজীবীদের বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমানে রাজ্যের বিভিন্ন অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালে প্রায় ৩৪ লক্ষ আবেদন বিচারাধীন রয়েছে। এখনও পর্যন্ত মাত্র ৩৮ হাজার আবেদন নিষ্পত্তি হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, যে আবেদনগুলির শুনানি সম্পূর্ণ হয়েছে, তার প্রায় ৭০ শতাংশ ক্ষেত্রেই আবেদনকারীদের নাম ফের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। তাই আপিল নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া আরও দ্রুত করার আবেদন জানানো হয়।

আরও পড়ুন:  ‘ধর্মেন্দ্র প্রধানের মন্ত্রীত্ব যাবে না’, পডুয়াদের পাশে দাঁড়িয়ে রাহুলের কড়া বার্তা মোদীকে

রাজ্যের নির্দেশিকা নিয়েও প্রশ্ন

শুনানিতে আইনজীবীরা জানান, গত মে মাস থেকে রাজ্য সরকার জনবণ্টন ব্যবস্থা (PDS), অন্নপূর্ণা যোজনা এবং জাতিগত শংসাপত্র যাচাই সংক্রান্ত একাধিক নির্দেশিকা জারি করেছে।

তাঁদের আশঙ্কা, ‘সার’ প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া বহু প্রান্তিক ও আর্থিকভাবে দুর্বল মানুষ এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

কী বলল সুপ্রিম কোর্ট?

এই অভিযোগের জবাবে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, বিহারের ‘সার’ সংক্রান্ত মামলায় গত ২৭ মে দেওয়া রায়েই আদালত স্পষ্ট করে বলেছিল, ‘সার’-এর মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্য শুধুমাত্র নির্বাচনী উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যাবে।

বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, ওই রায়েই আদালত উল্লেখ করেছিল যে, নির্বাচন কমিশন কোনও ব্যক্তির নাগরিকত্ব নির্ধারণের সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ নয়। কমিশন ভোটার তালিকা প্রস্তুত বা সংশোধনের কাজ করতে পারে, কিন্তু নাগরিকত্ব নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাদের নেই।

আরও পড়ুন:  রাম মন্দিরের চুরি নিয়ে নতুন দাবি উত্তরপ্রদেশের স্পিকারের

নাম বাদ গেলেও নাগরিকত্ব থাকবে বহাল

শীর্ষ আদালত আরও স্পষ্ট করে জানায়, যদি নির্বাচন কমিশন কোনও ব্যক্তিকে সন্দেহভাজন নাগরিক হিসেবে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেয়, তাহলে বিষয়টি নাগরিকত্ব আইনের আওতায় বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের কাছে পাঠাতে হবে।

ততদিন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাগরিকত্বের মর্যাদা বহাল থাকবে। শুধুমাত্র ভোটার তালিকায় নাম না থাকলেই কোনও ব্যক্তির নাগরিকত্ব বাতিল হয়ে যায় না—আদালতের এই পর্যবেক্ষণ মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক বলে মনে করছে আইন মহল।

আবেদনকারীদের দাবি কী?

মামলাকারীদের আইনজীবীরা আদালতের কাছে আবেদন জানান, অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালে সমস্ত আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সাধারণ মানুষকে যেন রেশন, অন্নপূর্ণা যোজনা-সহ অন্যান্য নাগরিক অধিকার ও সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত না করা হয়।

এই মামলার পরবর্তী শুনানিতে আদালত কী নির্দেশ দেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজ্য প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন এবং মামলাকারীদের।

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment