---Advertisement---

সক্রিয় হচ্ছে মোবাইল পাচার চক্র! কলকাতার গ্রেপ্তারি উসকে দিল জঙ্গি যোগের জল্পনা

By Suman Debnath

July 11, 2026 7:10 PM

সক্রিয় হচ্ছে মোবাইল পাচার চক্র! কলকাতার গ্রেপ্তারি উসকে দিল জঙ্গি যোগের জল্পনা

---Advertisement---





মোবাইল ফোনের পকেটমারি দিয়ে শুরু, তারপর? কলকাতা বা শহরতলীর চোরাই বাজারে সেই মোবাইলের যন্ত্রাংশ একটু একটু করে বিকিয়ে দেওয়া। আবার কখনও মোবাইলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বিদেশে পাচার করা। কখনও বা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চুরি হওয়া মোবাইল ফোনটাই হাতবদল হয়ে চলে যাচ্ছে বাংলাদেশ বা পাকিস্তানে। কথাগুলো গল্পের মতো শোনালেও এটাই রূঢ় বাস্তব। দক্ষিণ কলকাতার হরিদেবপুর থেকে যদি কুখ্যাত মোবাইল পাচার চক্রের মাথা বাংলাদেশের নাগরিক ‘ ডলার ‘ না ধরা পড়ত। তাহলে এই অপরাধ হয়তো ধামাচাপা পড়ে থাকত।

পুলিশের রেকর্ড ঘাঁটতে গিয়ে বেশ কিছু তথ্য হাতে এসেছিল তদন্তকারীদের। যা নতুন করে আরও তথ্যের জোগান দিয়েছিল। ৪ জুলাই, ২০২৬: ভোরের আলো ফুটতেই যশোর রোডের ওপর বনগাঁর কালুপুর মেদিয়া পাড়ায় মিলেছিল অসংখ্য মোবাইল ফোন। সবই অ্যান্ড্রয়েড ফোন। রাস্তায় ছড়িয়ে, ছিটিয়ে পড়েছিল সেগুলি। কার ফোন? কেন ওখানে ফোন? সীমান্ত এলাকায় কে ফেলে গেল অতগুলি ফোন? এই সব প্রশ্নই ভাবিয়ে তুলেছিল পুলিশকে।

আরও পড়ুন:  আরজি কর কাণ্ডে নতুন করে তদন্তে গতি, ঘটনাস্থল ঘুরে দেখল সিবিআইয়ের বিশেষ দল

সীমান্তবর্তী এলাকার এই ঘটনার তদন্তে নেমে সব দিক খতিয়ে দেখছিলেন গোয়েন্দারা। ওই তদন্ত এখনও চলছে। তার মাঝেই ‘ ডলার ‘ পুলিশের জালে। মিথ্যে কথা বলে ভারতের ভিসা নিয়ে নিজের দেশ ছেড়ে এই দেশে বসে মোবাইল ফোনের কালো কারবার চালাচ্ছিল সে।
পুলিশের নজরে এখন দুজন একজনের নাম ভিকি এবং অপরজন ডলার ওরফে মহম্মদ সালাউদ্দিন। কলকাতা পুলিশের এক শীর্ষ কর্তা এদিন বলেন, ‘ শুধু ভিকি নয় এই কাজে এইরকম এমন অনেক লোক আছে যাদের কথা কল্পনাই করা যায় না। এরা একজোট হয়ে এই রকেট চালায়। তবে এই সব অপরাধীরা এবার ধরা পড়বে।’

পুলিশের দাবি সালাউদ্দিন ওরফে ডলার চোরাই মোবাইল জমিয়ে রাখতো তারপর তার এজেন্টদের দিয়ে সেগুলি পাচার করা হতো।অন্যদিকে রাজ্য গোয়েন্দা পুলিশ সিআইডির এক শীর্ষ কর্তা এদিন বলেছেন, ‘ এই র‍্যাকেট নতুন নয়। কলকাতা এবং রাজ্যে ছড়িয়ে, ছিটিয়ে রয়েছে এদের দলের লোক।’ পুলিশের কথায় বিশেষ করে সীমান্তবর্তি এলাকায় কারা এই কাজের সঙ্গে যুক্ত তার একটি তালিকা আছে। সেই তালিকা ধরে ধরপাকড় চলছে। এটা একটি চেইন সিস্টেমে চলে।

আরও পড়ুন:  জীবিত কালে শুনে যেতে পারেননি তিনি ‘কলঙ্কমুক্ত’, মৃত্যুর ২ বছর পর কয়লা কেলেঙ্কারি থেকে মুক্তি পেলেন মনমোহন সিং

তদন্তকারীদের অন্য একাংশের কথায় শুধু মোবাইল ফোন নয় সিম কার্ড ব্যবসাও ভাবাচ্ছে তাঁদের। ২৭ মে, ২০২৫ বেআইনিভাবে মোবাইলের সিম কার্ড বিক্রির চক্রে যুক্ত থাকার অভিযোগে মহ্যমপুর গ্রাম থেকে দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করে বেলডাঙা থানার পুলিশ। নাম মোমিন মল্লিক ও হোসেন মল্লিক। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের থেকে বিভিন্ন সিম কার্ড সংস্থার মোট ১১৮৩টি চালু সিম কার্ড এবং ১১টি কিপ্যাড মোবাইল ফোন উদ্ধার হয়। এই সিম কার্ডগুলি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডেই ব্যবহৃত হচ্ছিল। তদন্তে পুলিশ জেনেছিল বিহার ও ঝাড়খণ্ড থেকে পুরনো মোবাইল ফোন কম দামে কিনে এসব ফোনে থাকা পরিত্যক্ত বা ‘ডি-অ্যাক্টিভেট’ না-করা সিম কার্ডগুলো পুনরায় চালু করে বিক্রি করা হতো। এখানেও একই প্রশ্ন উঠছে। তাহলে কি চোরাই মোবাইল ফোন অসাধু ব্যক্তিদের হাতে যেতো? কালো ব্যবসা চালাতে না হলে রোগের অছিলায় কেনো ভিসা নিয়েছিল ডলার।

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment